ফিরে যান
১,০০০+ লজিক্যাল কিউবিটে স্কেল করার জন্য গুগল এবং আইবিএম-এর কোয়ান্টাম আর্কিটেকচারের তুলনা।

গুগল বনাম আইবিএম: কোয়ান্টাম সুপ্রিমেসির সন্ধানে ভিন্ন দুই আর্কিটেকচারের ব্যবচ্ছেদ

April 27, 2026By QASM Editorial

২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি যে, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং এখন আর সায়েন্স ফিকশন বা স্রেফ গবেষণাগারের বিষয় নয়। গত কয়েক বছরে কোয়ান্টাম সুপ্রিমেসি বা শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। এই লড়াইয়ের দুই প্রধান নায়ক—গুগল (Google) এবং আইবিএম (IBM)—সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি আর্কিটেকচারাল দর্শন নিয়ে এগিয়ে চলেছে। আজকের নিবন্ধে আমরা এই দুই টেক জায়ান্টে’র কোয়ান্টাম কৌশলের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করবো।

গুগল: লজিক্যাল কিউবিট এবং সারফেস কোড-এর উপর গুরুত্ব

গুগলের যাত্রার শুরু থেকেই তাদের লক্ষ্য ছিল ‘কোয়ান্টাম এরর কারেকশন’ বা ত্রুটি সংশোধন। ২০২৬ সালের এই সময়ে গুগল তাদের ‘সাইকামোর’ (Sycamore) প্রসেসরকে আরও উন্নত করে লজিক্যাল কিউবিট তৈরির দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। গুগল বিশ্বাস করে, হাজার হাজার নয়েজি বা ত্রুটিপূর্ণ কিউবিটের চেয়ে গুটিকতক ত্রুটিমুক্ত লজিক্যাল কিউবিট অনেক বেশি কার্যকর।

    <li><strong>আর্কিটেকচার:</strong> গুগল মূলত সুপারকন্ডাক্টিং ট্রান্সমন কিউবিট ব্যবহার করে। তাদের বিশেষত্ব হলো কিউবিটগুলোর মধ্যে হাই-কানেক্টিভিটি এবং কম এরর রেট।</li>
    
    <li><strong>মূল শক্তি:</strong> সারফেস কোড (Surface Codes) ব্যবহারের মাধ্যমে তারা কিউবিটের স্থায়িত্ব বাড়াতে সক্ষম হয়েছে, যা জটিল অ্যালগরিদম রান করতে সাহায্য করে।</li>
    

আইবিএম: স্কেলেবিলিটি এবং মডুলার কোয়ান্টাম সিস্টেম টু

অন্যদিকে, আইবিএম-এর কৌশল হলো স্কেলেবিলিটি বা ব্যাপকতা। ২০২৪-২৫ সালে তাদের ১০০০-এর বেশি কিউবিটের প্রসেসর ‘কনডর’ (Condor) উন্মোচনের পর থেকে তারা মূলত মডুলার আর্কিটেকচারের দিকে ঝুঁকেছে। তাদের ‘কোয়ান্টাম সিস্টেম টু’ (Quantum System Two) এখন শিল্পের মানদণ্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    <li><strong>আর্কিটেকচার:</strong> আইবিএম মডুলার চিপ ডিজাইন ব্যবহার করে, যেখানে একাধিক ছোট প্রসেসরকে একে অপরের সাথে যুক্ত করা যায়। এটি অনেকটা আধুনিক সুপারকম্পিউটারের ক্লাস্টারিংয়ের মতো।</li>
    
    <li><strong>মূল শক্তি:</strong> কিউবিট রুটিং এবং ফ্লেক্সিবল হার্ডওয়্যার। তাদের ইকোসিস্টেম বা কিসকিট (Qiskit) ডেভেলপারদের কাছে অনেক বেশি জনপ্রিয়, যা তাদের একটি শক্তিশালী কমিউনিটি অ্যাডভান্টেজ দেয়।</li>
    

প্রধান পার্থক্যসমূহ: কার পথ বেশি কার্যকর?

গুগল এবং আইবিএম-এর মধ্যে মূল পার্থক্য হলো তাদের লক্ষ্যমাত্রায়। গুগল যেখানে ‘কোয়ান্টাম অ্যাডভান্টেজ’ অর্জনের জন্য কিউবিটের মানের (Quality) ওপর জোর দিচ্ছে, আইবিএম সেখানে কিউবিটের সংখ্যার (Quantity) মাধ্যমে বড় সমস্যার সমাধান খুঁজছে।

গুগলের পদ্ধতিটি মূলত বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য অত্যন্ত কার্যকর, বিশেষ করে ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স এবং মলিকুলার সিমুলেশনে। কিন্তু আইবিএম-এর মডুলার সিস্টেম এন্টারপ্রাইজ লেভেলে ডেটা অ্যানালিটিক্স এবং অপ্টিমাইজেশন সমস্যার সমাধানের জন্য বেশি উপযোগী বলে প্রমাণিত হচ্ছে।

২০২৬-এর বাস্তবতায় আমাদের অবস্থান

বর্তমানে আমরা এমন এক পর্যায়ে আছি যেখানে দুটি আর্কিটেকচারই সফল। গুগল প্রথম লজিক্যাল কিউবিটের মাধ্যমে নির্ভুল গণনা করে দেখিয়েছে, আর আইবিএম হাজার হাজার কিউবিটকে একত্রে সিঙ্ক্রোনাইজ করার ক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। একজন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ হিসেবে আমি মনে করি, কোয়ান্টাম সুপ্রিমেসির এই লড়াইয়ে কোনো একক বিজয়ী নেই; বরং এই দুই ভিন্ন ধারার মিলনই আমাদের একটি পূর্ণাঙ্গ কোয়ান্টাম কম্পিউটিং যুগের দিকে নিয়ে যাবে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই পরিবর্তনগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের আইটি খাতের পেশাদারদের এখনই এই দুই ভিন্ন ইকোসিস্টেমের সাথে পরিচিত হওয়া প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যৎ কোয়ান্টাম বিপ্লবে আমরা পিছিয়ে না পড়ি।

সম্পর্কিত নিবন্ধ