ফিরে যান
গুগল সাইকামোর কোয়ান্টাম প্রসেসর: তত্ত্ব থেকে ২০২৬-এর ত্রুটি-সহনশীল বাস্তবতায় উত্তরণ।

আধিপত্যের সূচনা: গুগলের ২০১৯ সালের সাইকামোর অর্জনের একটি ফিরে দেখা

April 3, 2026By QASM Editorial

২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে আমরা যখন কোয়ান্টাম কম্পিউটিংকে আমাদের দৈনন্দিন বৈজ্ঞানিক গবেষণার অংশ হিসেবে গ্রহণ করতে শুরু করেছি, তখন সাত বছর আগের একটি বিশেষ মুহূর্তের কথা বারবার ফিরে আসে। ২০১৯ সালের সেই অক্টোবর মাস, যখন ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা বারবারায় গুগল এআই কোয়ান্টাম টিমের গবেষকরা ঘোষণা করেছিলেন যে, তারা এমন একটি কাজ সম্পন্ন করেছেন যা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সুপারকম্পিউটারের পক্ষেও প্রায় অসম্ভব ছিল।

সাইকামোর: এক নতুন যুগের প্রবেশদ্বার

গুগলের ৫৩-কিউবিটের 'সাইকামোর' (Sycamore) প্রসেসরটি যখন তৈরি করা হয়েছিল, তখন এটি ছিল প্রকৌশলবিদ্যার এক অনন্য নিদর্শন। তারা প্রমাণ করেছিলেন যে, তাদের কোয়ান্টাম প্রসেসর মাত্র ২০০ সেকেন্ডে এমন একটি গাণিতিক হিসাব সম্পন্ন করেছে, যা তখনকার শীর্ষস্থানীয় সুপারকম্পিউটার 'সামিট'-এর (Summit) করতে সময় লাগত প্রায় ১০,০০০ বছর। এই অর্জনটিকেই 'কোয়ান্টাম সুপ্রিমেসি' বা 'কোয়ান্টাম শ্রেষ্ঠত্ব' হিসেবে অভিহিত করা হয়।

তর্ক-বিতর্ক এবং বৈজ্ঞানিক কঠোরতা

অবশ্য সেই সময়ে এই অর্জনটি বিতর্কমুক্ত ছিল না। আইবিএম (IBM) তৎক্ষণাৎ দাবি করেছিল যে, যথাযথ অ্যালগরিদম ব্যবহার করলে সুপারকম্পিউটার এই কাজ মাত্র আড়াই দিনে করতে পারত। কিন্তু ২০২৬ সালের প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে আমরা বুঝতে পারি, সেই বিতর্কটি ছিল আসলে কোয়ান্টাম বনাম ক্লাসিক্যাল কম্পিউটিংয়ের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ের একটি প্রাথমিক পর্যায় মাত্র। গুগলের সেই সাফল্যটি কেবল গতির লড়াই ছিল না, বরং এটি ছিল একটি ধারণার বাস্তব প্রমাণ (Proof of Concept)।

কেন এই অর্জনটি ঐতিহাসিক ছিল?

  • বাস্তব প্রয়োগের ভিত্তি: সাইকামোর দেখিয়েছিল যে সুনির্দিষ্ট এবং নিয়ন্ত্রিতভাবে কিউবিটগুলোকে পরিচালনা করা সম্ভব।
  • ত্রুটি সংশোধন বা এরর কারেকশন: যদিও ২০১৯ সালে কিউবিটগুলো ছিল 'নয়েজি' বা ত্রুটিপূর্ণ, কিন্তু সেটিই পরবর্তীকালে আমাদের আজকের ফল্ট-টলারেন্ট কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের পথ প্রশস্ত করে।
  • বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগ: গুগলের এই অর্জনের পরেই বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় এবং বিশ্বজুড়ে কোয়ান্টাম গবেষণায় সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।

উপসংহার

২০২৬ সালে আমরা যখন ড্রাগ ডিজাইন বা উন্নত মেটেরিয়াল সায়েন্সে কোয়ান্টাম অ্যালগরিদম ব্যবহার করছি, তখন গুগলের সেই ২০১৯ সালের সাইকামোর প্রজেক্টটিকে আমরা কম্পিউটিং ইতিহাসের 'কিটি হক' (Kitty Hawk) মুহূর্ত হিসেবে গণ্য করি। রাইট ভ্রাতৃদ্বয় যেমন বিমান চালনার ভবিষ্যৎ দেখিয়েছিলেন, গুগলও তেমনি আমাদের দেখিয়েছিল সিলিকন চিপের সীমাবদ্ধতার বাইরে এক নতুন মহাবিশ্বের অস্তিত্ব।

সম্পর্কিত নিবন্ধ