ফিরে যান
২০২৬ সালের ত্রুটি-সংশোধিত ১০ লক্ষ কিউবিট কোয়ান্টাম প্রসেসর তৈরির প্রতিযোগিতার চিত্র।

১০ লক্ষ কিউবিটের মাইলফলক: কোন টেক জায়ান্ট আগে পৌঁছাবে ফিনিশ লাইনে?

April 2, 2026By QASM Editorial

২০২৬ সাল কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের ইতিহাসে একটি সন্ধিক্ষণ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। কয়েক বছর আগেও যা ছিল তাত্ত্বিক আলোচনা, আজ তা বাস্তব রূপ নিতে শুরু করেছে। বিশ্বের বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন আর কেবল 'কোয়ান্টাম সুপ্রিমেসি' নিয়ে সন্তুষ্ট নয়; তাদের লক্ষ্য এখন একটি পূর্ণাঙ্গ, ত্রুটিমুক্ত (fault-tolerant) কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরি করা, যা ১০ লক্ষ কিউবিটের শক্তি সম্পন্ন হবে।

কেন ১০ লক্ষ কিউবিট এত গুরুত্বপূর্ণ?

সাধারণ কম্পিউটারের বিট যেমন ০ বা ১ হয়, কোয়ান্টাম কম্পিউটারের কিউবিট একই সাথে দুই অবস্থাতেই থাকতে পারে। তবে বর্তমানের কয়েকশ কিউবিটের প্রসেসরগুলো বাস্তব জগতের বড় সমস্যা সমাধানে পর্যাপ্ত নয়। গবেষকদের মতে, ওষুধ তৈরি, নতুন ম্যাটেরিয়াল ডিজাইন বা বর্তমানের এনক্রিপশন ভাঙার মতো কাজগুলোর জন্য প্রয়োজন লক্ষাধিক কিউবিট, যা কার্যকরভাবে ত্রুটি সংশোধন বা 'এরর কারেকশন' করতে সক্ষম হবে।

দৌড়ে কে এগিয়ে?

প্রতিযোগিতার অগ্রভাগে থাকা তিনটি প্রধান শক্তির অবস্থান এখন নিম্নরূপ:

  • আইবিএম (IBM): তাদের ২০৩৩ সালের রোডম্যাপ অনুযায়ী, আইবিএম 'কোয়ান্টাম সিস্টেম টু' এর মাধ্যমে মডুলার আর্কিটেকচারের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। ২০২৬ সালের এই সময়ে দাঁড়িয়ে আমরা দেখছি আইবিএম তাদের কয়েক হাজার কিউবিটের চিপগুলোকে একে অপরের সাথে সংযুক্ত করে একটি বড় নেটওয়ার্ক তৈরি করছে, যা তাদের ১০ লক্ষ কিউবিটের লক্ষ্যের দিকে দ্রুত নিয়ে যাচ্ছে।
  • গুগল (Google): গুগলের ফোকাস এখন কেবল কিউবিটের সংখ্যার ওপর নয়, বরং কিউবিটের মান এবং এরর কারেকশনের ওপর। তাদের দাবি, তারা এমন একটি 'লজিক্যাল কিউবিট' তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে যা ফিজিক্যাল কিউবিটের চেয়েও বেশি স্থিতিশীল। গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিভাগ এখন এই কোয়ান্টাম পাওয়ারকে এআই মডেল প্রশিক্ষণে ব্যবহারের চেষ্টা করছে।
  • মাইক্রোসফট (Microsoft): মাইক্রোসফট তাদের টপোলজিক্যাল কিউবিট (Topological Qubits) গবেষণায় বড় ধরনের ব্রেক-থ্রু অর্জন করেছে। তাদের দাবি, তাদের পদ্ধতিতে কিউবিটগুলো অনেক বেশি শক্তিশালী এবং বাইরের হস্তক্ষেপমুক্ত থাকবে। অ্যাজিউর কোয়ান্টাম (Azure Quantum) প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তারা ক্লাউডে এই শক্তি সাধারণ গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

প্রতিবন্ধকতা ও সম্ভাবনা

যদিও আমরা ১০ লক্ষ কিউবিটের খুব কাছাকাছি, তবুও ক্রায়োজেনিক কুলিং এবং কিউবিট স্থিতিশীলতার মতো চ্যালেঞ্জগুলো এখনও বিদ্যমান। দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপটে আমাদের মতো দেশের জন্য এই প্রযুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সাইবার সিকিউরিটি এবং ডেটা এনক্রিপশনের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তনগুলো আমাদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করবে।

শেষ কথা

ফিনিশ লাইন হয়তো এখনও কিছুটা দূরে, কিন্তু ২০২৬ সালের এই তীব্র প্রতিযোগিতা আমাদের জানান দিচ্ছে যে, কোয়ান্টাম বিপ্লব আর কল্পনা নয়। আইবিএম তাদের স্কেলেবিলিটি দিয়ে এগিয়ে থাকলেও, গুগল বা মাইক্রোসফট তাদের কারিগরি উৎকর্ষ দিয়ে যেকোনো সময় বাজি পাল্টে দিতে পারে। তবে দিনশেষে জয় হবে বিজ্ঞানের, যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের জটিল সমস্যাগুলোর সহজ সমাধান এনে দেবে।