ফিরে যান
কোয়ান্টাম কম্পিউটিং উন্নয়নে গুগল এবং আইবিএম-এর শিল্প প্রতিযোগিতার একটি বিমূর্ত চিত্রায়ন।

কর্পোরেট জাগরণ: কোয়ান্টাম যুদ্ধের ময়দানে গুগল ও আইবিএম-এর প্রবেশ (২০১৪-২০১৫)

April 1, 2026By QASM Editorial

সূচনা: ২০২৬ থেকে ফিরে দেখা

আজ ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে আমরা যখন কোয়ান্টাম অ্যাডভান্টেজকে আমাদের শিল্প ও প্রযুক্তির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখছি, তখন এক দশক আগের সেই দিনগুলোর কথা ভাবা প্রয়োজন যখন এই প্রযুক্তি ছিল কেবল ল্যাবরেটরির স্বপ্ন। ২০১৪ এবং ২০১৫ সাল ছিল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ, যখন সিলিকন ভ্যালির কর্পোরেট জায়ান্টরা বুঝতে পেরেছিল যে কোয়ান্টাম কম্পিউটিং কেবল একটি তাত্ত্বিক বিষয় নয়, বরং আগামী দিনের ভূ-রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতার চাবিকাঠি।

২০১৪: গুগলের বড় বাজি এবং হার্ডওয়্যার বিপ্লব

২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে গুগল যখন ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, সান্তা বারবারার (UCSB) বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী জন মার্টিনিস এবং তার পুরো গবেষক দলকে নিজেদের সাথে যুক্ত করে, তখন পুরো প্রযুক্তি বিশ্ব নড়েচড়ে বসে। এর আগে গুগল মূলত ডি-ওয়েভ (D-Wave) থেকে কেনা সিস্টেমের ওপর নির্ভর করত। কিন্তু মার্টিনিসের দলকে নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমে গুগল স্পষ্ট করে দেয় যে, তারা নিজেরাই নিজস্ব 'সুপারকন্ডাক্টিং কিউবিট' ভিত্তিক কোয়ান্টাম চিপ তৈরি করতে চায়। এটি ছিল আধুনিক কোয়ান্টাম অস্ত্র প্রতিযোগিতার প্রথম বড় পদক্ষেপ।

২০১৫: আইবিএম-এর কৌশলগত অবস্থান

আইবিএম (IBM) কোয়ান্টাম গবেষণায় কয়েক দশক ধরে কাজ করলেও, ২০১৫ সালে তারা তাদের প্রচেষ্টাকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দান করে। তারা বুঝতে পেরেছিল যে কেবল ল্যাবে প্রোটোটাইপ তৈরি করলেই হবে না, বরং কোয়ান্টাম কম্পিউটিংকে একটি স্কেলেবল মডেলে নিয়ে আসতে হবে। ২০১৫ সালের দিকে আইবিএম তাদের ফাইভ-কিউবিট (5-qubit) প্রসেসরের ত্রুটি সংশোধনের পথে বড় সাফল্য পায়, যা পরবর্তীতে ২০১৬ সালে 'আইবিএম কিউ এক্সপেরিয়েন্স' হিসেবে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছিল।

কেন এই সময়কালটি ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ?

ইতিহাসের পাতায় ২০১৪-২০১৫ সালকে 'কর্পোরেট জাগরণ'-এর সময় বলা হয় কারণ:

  • একাডেমিক থেকে বাণিজ্যিক রূপান্তর: এই সময়েই কোয়ান্টাম গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গণ্ডি পেরিয়ে বড় কর্পোরেট ল্যাবে স্থানান্তরিত হয়।
  • বিনিয়োগের জোয়ার: ভেনচার ক্যাপিটালিস্ট এবং বড় কোম্পানিগুলো বুঝতে পারে যে ক্লাসিক্যাল কম্পিউটারের সীমাবদ্ধতা কাটানোর একমাত্র পথ কোয়ান্টাম।
  • সুপারকন্ডাক্টিং প্রযুক্তির শ্রেষ্ঠত্ব: গুগল এবং আইবিএম উভয়ই সুপারকন্ডাক্টিং সার্কিটের ওপর জোর দেয়, যা আজকের ২০২৬ সালের অধিকাংশ বাণিজ্যিক কোয়ান্টাম কম্পিউটারের ভিত্তি।

উপসংহার

আজ ২০২৬ সালে আমরা যে ফল্ট-টলারেন্ট কোয়ান্টাম কম্পিউটিং উপভোগ করছি, তার বীজ বপন করা হয়েছিল সেই ২০১৪-২০১৫ সালের প্রতিযোগিতার মাধ্যমে। গুগল এবং আইবিএম-এর সেই সাহসিকতা এবং বিশাল অংকের বিনিয়োগ না থাকলে, মানবজাতি আজও হয়তো ক্লাসিক্যাল কম্পিউটারের গাণিতিক সীমাবদ্ধতার জালে আটকে থাকত। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, এই দুই বছরই ছিল প্রকৃত 'কোয়ান্টাম এরা' বা কোয়ান্টাম যুগের প্রকৃত সূচনালগ্ন।

সম্পর্কিত নিবন্ধ