ফিরে যান
জিউঝাং কোয়ান্টাম কম্পিউটারের ফোটোনিক সার্কিট, যা উন্নত কোয়ান্টাম আধিপত্যের প্রতীক।

জিউঝাং মাইলফলক: ফোটোনিক কোয়ান্টাম শ্রেষ্ঠত্বে চীনের যুগান্তকারী অর্জন

April 4, 2026By QASM Editorial

২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে যখন আমরা কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের বাণিজ্যিক প্রয়োগ এবং দৈনন্দিন জীবনের জটিল সমস্যা সমাধানে এর ভূমিকা দেখছি, তখন পেছনে ফিরে তাকালে ২০২০ সালের সেই বিশেষ মুহূর্তটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় কতটা পথ আমরা পাড়ি দিয়েছি। চীনের ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (USTC)-এর গবেষকদের তৈরি 'জিউঝাং' (Jiuzhang) ছিল সেই মাইলফলক, যা বিশ্বকে প্রথমবারের মতো ফোটোনিক কোয়ান্টাম শ্রেষ্ঠত্বের বা 'কোয়ান্টাম সুপ্রিমেসি'র স্বাদ দিয়েছিল।

কোয়ান্টাম শ্রেষ্ঠত্বের নতুন দিগন্ত

২০১৯ সালে গুগল তাদের 'সাইকামোর' প্রসেসরের মাধ্যমে কোয়ান্টাম শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের দাবি করলেও, জিউঝাং ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন ধারার। গুগল যেখানে সুপারকন্ডাক্টিং কিউবিট ব্যবহার করেছিল, চীনের জিউঝাং সেখানে ব্যবহার করেছিল আলোক কণা বা ফোটন। প্রাচীন চীনা গণিত শাস্ত্রের নামানুসারে নামকরণ করা এই কম্পিউটারটি 'গাউসিয়ান বোসন স্যাম্পলিং' (Gaussian Boson Sampling) নামক একটি গাণিতিক সমস্যা সমাধানে তৎকালীন বিশ্বের দ্রুততম সুপারকম্পিউটার 'সানওয়ে তাইহুলাইট'-এর চেয়ে প্রায় ১০ ট্রিলিয়ন গুণ দ্রুততর ছিল।

ফোটোনিক প্রযুক্তির শ্রেষ্ঠত্ব কেন গুরুত্বপূর্ণ ছিল?

জিউঝাং-এর সাফল্য কেবল গতির জন্য নয়, বরং এর কারিগরি পদ্ধতির জন্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত হয়েছিল। এর প্রধান কিছু বৈশিষ্ট্য ছিল:

  • সাধারণ তাপমাত্রায় কাজ করার ক্ষমতা: সুপারকন্ডাক্টিং কিউবিটগুলোকে পরম শূন্য তাপমাত্রার কাছাকাছি রাখতে হয়, কিন্তু জিউঝাং-এর ফোটোনিক সিস্টেমের বড় একটি অংশ সাধারণ তাপমাত্রায় কাজ করতে সক্ষম ছিল।
  • স্কেলেবিলিটি: ফোটন ভিত্তিক সিস্টেমে তথ্য আদান-প্রদান এবং নেটওয়ার্কিং অনেক বেশি সহজতর, যা আজকের ২০২৬ সালের কোয়ান্টাম ইন্টারনেটের ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।
  • নির্ভুলতা: ৭৬টি ফোটন শনাক্ত করার মাধ্যমে জিউঝাং যে নির্ভুলতা প্রদর্শন করেছিল, তা সেই সময়ে অসম্ভব বলে মনে করা হতো।

২০২৬-এর প্রেক্ষাপটে জিউঝাং-এর প্রভাব

আজকের দিনে যখন আমরা জিউঝাং ২.০ এবং ৩.০-এর উত্তরসূরিদের ব্যবহার করছি, তখন বুঝতে পারি যে ২০শে ডিসেম্বরের সেই সাফল্য ছিল কেবল শুরু। এটি বিশ্বজুড়ে একটি 'কোয়ান্টাম রেস' বা প্রতিযোগিতার সূচনা করেছিল, যার ফলে ইউরোপ এবং আমেরিকা তাদের ফোটোনিক গবেষণায় বিনিয়োগ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। জিউঝাং প্রমাণ করেছিল যে, কোয়ান্টাম শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের একাধিক পথ রয়েছে এবং ফোটোনিক কম্পিউটিং কেবল একটি তাত্ত্বিক ধারণা নয়, বরং এটি একটি বাস্তব এবং শক্তিশালী প্রযুক্তি।

উপসংহার

ইতিহাসের পাতায় জিউঝাং-কে দেখা হয় সেই চাবিকাঠি হিসেবে, যা ফোটোনিক কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের রুদ্ধ দুয়ার খুলে দিয়েছিল। আজকের উন্নত কোয়ান্টাম অ্যালগরিদম এবং ক্রিপ্টোগ্রাফি সিস্টেমের মূলে রয়েছে সেই দিনের সেই সাহসী পরীক্ষা। চীনের এই সাফল্য কম্পিউটিং জগতে এশিয়ান দেশগুলোর সক্ষমতার এক জ্বলন্ত প্রমাণ হয়ে থাকবে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ