
সাইকোয়ান্টাম: ফোটোনিক্সের ওপর বাজি ধরে কোয়ান্টাম বিপ্লবের পথে সিলিকন ভ্যালির এই স্টার্টআপ
কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের নতুন দিগন্ত: কেন ফোটোনিক্স?
২০২৬ সালে এসে আমরা কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি। কয়েক বছর আগেও যেখানে কেবল ছোটখাটো প্রোটোটাইপ নিয়ে আলোচনা হতো, আজ সেখানে ‘ইউটিলিটি-স্কেল’ বা ব্যবহারিক কোয়ান্টাম কম্পিউটারের কথা হচ্ছে। এই দৌড়ে যে প্রতিষ্ঠানটি সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে, সেটি হলো সিলিকন ভ্যালির স্টার্টআপ ‘সাইকোয়ান্টাম’ (PsiQuantum)। তাদের বিশেষত্ব হলো, তারা গুগলে বা আইবিএম-এর মতো সুপারকন্ডাক্টিং কিউবিট নয়, বরং আলোর কণা বা ফোটোনিক্সের ওপর ভিত্তি করে তাদের পুরো প্রযুক্তি গড়ে তুলেছে।
সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের শক্তিকে কাজে লাগানো
সাইকোয়ান্টামের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হলো তাদের উৎপাদন কৌশল। তারা নতুন কোনো কারখানার বদলে বিদ্যমান সেমিকন্ডাক্টর ফ্যাব্রিকেশন প্ল্যান্ট বা ‘ফ্যাব’ ব্যবহার করেই তাদের কোয়ান্টাম চিপ তৈরি করছে। গ্লোবালফাউন্ড্রিজের (GlobalFoundries) সাথে তাদের অংশীদারিত্ব গত কয়েক বছরে প্রমান করেছে যে, সিলিকন চিপ তৈরির প্রচলিত পদ্ধতিতেই কোয়ান্টাম প্রসেসর উৎপাদন সম্ভব। এতে করে স্কেলেবিলিটি বা বড় পরিসরে কম্পিউটার তৈরির বিষয়টি অনেক সহজ হয়ে গেছে।
শিকাগো প্রজেক্ট এবং ২০২৬-এর বাস্তবতা
২০২৪ সালে সাইকোয়ান্টাম শিকাগোতে তাদের বিশাল কোয়ান্টাম সেন্টার স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছিল। ২০২৬-এর এই সময়ে দাঁড়িয়ে আমরা দেখতে পাচ্ছি, সেই সেন্টারের কাজ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। যেখানে অন্যান্য কোম্পানিগুলো অত্যন্ত শীতল তাপমাত্রায় (ক্রায়োজেনিক) সিস্টেম পরিচালনা করতে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে সাইকোয়ান্টামের ফোটোনিক পদ্ধতিতে চিপের একটি বড় অংশ সাধারণ তাপমাত্রায় কাজ করতে পারে। এটি তাদের রক্ষণাবেক্ষণ খরচ এবং জটিলতা বহুগুণ কমিয়ে দিয়েছে।
ফল্ট-টলারেন্ট কোয়ান্টাম কম্পিউটিং
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের প্রধান বাধা হলো ‘নয়েজ’ বা ভুল ফলাফল। সাইকোয়ান্টাম শুরু থেকেই দাবি করে আসছে যে, তারা সরাসরি ‘ফল্ট-টলারেন্ট’ বা ভুল সংশোধনে সক্ষম সিস্টেম তৈরিতে বিশ্বাসী। ফোটোনিক্স ব্যবহারের ফলে তারা কয়েক মিলিয়ন কিউবিটকে একে অপরের সাথে সংযুক্ত করার এক অনন্য নেটওয়ার্ক তৈরি করতে পেরেছে, যা গতানুগতিক পদ্ধতিতে প্রায় অসম্ভব ছিল।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ
যদিও সাইকোয়ান্টাম বর্তমানে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে, তবুও চ্যালেঞ্জ কিন্তু কম নয়। ফোটোনিক কিউবিটগুলো শনাক্ত করা এবং তাদের মধ্যে ইন্টারঅ্যাকশন ঘটানো অত্যন্ত জটিল একটি কাজ। তবে ২০২৬ সালের বর্তমান বাজার বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বড় বড় ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এবং ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স কোম্পানিগুলো ইতিমধ্যেই সাইকোয়ান্টামের সিমুলেশন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের জন্য চুক্তিবদ্ধ হচ্ছে।
- সহজ উৎপাদন প্রক্রিয়া: বিদ্যমান চিপ কারখানায় উৎপাদনযোগ্য।
- স্কেলেবিলিটি: লাখ লাখ কিউবিট সংযোগের সক্ষমতা।
- তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ: সুপারকন্ডাক্টিং সিস্টেমের তুলনায় কম শীতলীকরণের প্রয়োজন।
পরিশেষে বলা যায়, সাইকোয়ান্টাম কেবল একটি স্টার্টআপ নয়, বরং এটি সিলিকন ভ্যালির সেই সাহসী বাজি যা সম্ভবত কোয়ান্টাম কম্পিউটিংকে আমাদের ল্যাবরেটরি থেকে বের করে সাধারণ মানুষের জীবনের প্রয়োজনে নিয়ে আসবে।


